Wednesday, April 26, 2017

“সৌদি আরবে আমার দিনগুলো।”

দিনের পর সপ্তাহ পেরিয়ে দেখতে দেখতে মাস খানেকের অধিক সময় সৌদি আরবে কেটে গেলো। আলো ঝলমলে নগরীতে হাসি আছে, আনন্দ আছে, আছে দুঃখ ও বেদনা। রাতগুলো কারো কাছে যেমন দীর্ঘ, পাশাপাশি অনেকের কাছে তা খুবই ছোট। 
আমি দেখেছি- আরব বিশ্ব নিয়ে আমাদের প্রায় সবার মাঝেই মিশ্র অনুভূতি আছে। অস্বীকার করার কোন জো নেই যে, ভালো মন্দে মেশানো যেকোন সমাজ। দিনশেষে আপনি নিজে কীভাবে নিজের জীবনটাকে দেখতে চেয়েছেন তাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
আমার এই অল্প সময়ে সৌদি আরবকে যেমনটা দেখেছি তার কিছু দিক হলো নিম্নরূপ—

✔ সালাম ও সালাতঃ

আমার এমনও হয়েছে ঢাকা হতে বাসে সিলেটে যাচ্ছি অথচ পাশের সিটের যাত্রীর সাথে একটি কথাও হয়নি। কিন্তু সৌদি আরবে এটা কল্পনাও করা যাবেনা। কেউ কাউকে চেনেনা- সালাম দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে যাচ্ছে। সালাম দেয়ার সাথে সাথে তাদের মাঝের দূরত্ব দূর হয়ে যায়।
মরুভূমির মাঝ দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে, সালাতের সময় হয়ে গেলে সৌদিরা গাড়ি থামিয়ে মাদুর বিছিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। তার দেখাদেখি অন্যান্য গাড়িগুলো থেমে যায়। এখানে হাইওয়েগুলোর পাশে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্যাস স্টেশন, খাবার দোকান ও একটি মসজিদ থাকবেই। দু’জন লোক হলেই এরা জামাত বানিয়ে সালাত পড়বে। যদিও এখানে ধর্মীয় পুলিশ আছে, তারা সালাতের তাগাদা দেয়। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সালাত পড়াটা নিজের ভেতর থেকেই আসে।

✔ নিমন্ত্রণঃ

সাথে পরিবার না থাকলে কোন সৌদি খাচ্ছে এবং আপনি তাকে সালাম দিলেন অথচ তার সাথে খেতে বলবেনা তা ভাবাই যায় না। কাউকে খাওয়ানোটা সওয়াবের কাজ। মসজিদগুলোতে অনেকেই পানির বাক্স রেখে যায় শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। শুনেছি রামাদ্বানের সময় পানি দান করাটা অনেক বেড়ে যায়। পৌর অফিস রাস্তার পাশে শহর জুড়ে রেফ্রিজারেটর বসিয়েছে-সৌদিরা সেখানে খাবার, ফলমূল, জুস ও পানি রেখে দেয় যাতে যে কেউ প্রয়োজনমত নিয়ে খেতে পারে।

✔ সাহায্য প্রাপ্তিঃ

আমি আরবি ভাষায় পারদর্শী নই, আবার সৌদিরা ইংরেজিতে খুব একটা সামলে উঠতে পারেনা; অথচ তারা অনেকেই সাহায্যপরায়ণ। ঠিকমতো বুঝাতে পারলে সাহায্য করবেই। আমার প্রথম দিনে বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পাসপোর্টে আরবিতে বর্ডার নম্বর ভুল লিখে ফেলেন। কিন্তু আমি যখন STC SIM Card কিনতে যাই তখনই তা অপারেটিং কর্মকর্তার নজরে আসে এবং তিনি আমাকে ইমিগ্রেশন ডেস্ক থেকে পূণরায় নম্বরটির সঠিকতা যাচাই করতে ইমিগ্রেশন পুলিশের নিকট নিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় আমার পাসপোর্টে বর্ডার নম্বর সঠিকভাবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লিখে দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

✔ সস্তা খাবারঃ

সৌদি আরবে জীবন যাপনের ব্যয়ভার খুবই কম। এখানকার চেয়ে সস্তা খাবার আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। তেলের দাম কম হওয়ায় আনুষঙ্গিক অনেক কিছুর খরচই কমে যায়। ১ রিয়ালে ৪ টি রুটি অথবা ১টি বিশাল সাইজের আফগানি রুটি (তমিজ) পাওয়া যায়। কেউ ন্যূনতম ৩ রিয়াল খরচ করলে খুব সহজেই পেট ভরে নাস্তা করতে পারবে। বিভিন্ন দেশের লোক থাকার কারণে সব দেশের খাবারই এখানে পাওয়া যায়।
তবে সৌদিদের মতো খাবারের অপচয় আর কোন জাতি করে কিনা যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে।

✔ উপভোগ্য জীবনঃ

অলসদের তালিকায় সৌদি আরব তৃতীয় হয়েছিল। এদের মতো চিন্তামুক্ত জীবন বোধহয় কেউ যাপন করেনা। ১৫ জন ধরে এমন আকারের জিএমসি গাড়ি নিয়ে বাসা হতে বের হয়ে যাবে, রাস্তার ধারে কিংবা পার্কে বসে পরিবারের লোকজনের সাথে অলস সময় কাটাবে। সামাজিক নিরাপত্তা থাকার কারণে হাতে যা টাকা আসে, সবটাই প্রায় খরচ করে ফেলে।
লং ড্রাইভ, রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে শিসা টানা এদের শখ।

✔ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নঃ

টাকা থাকলেই যে তার সঠিক ব্যবহার হবে তা নয়। তবে সৌদি আরব তার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভালোভাবেই গড়ে তুলেছে। সৌদি আরবে এখন মেট্রোরেলের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। তাছাড়া এখানে একটি গ্রামের রাস্তা ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের চেয়েও ভালো। হাইওয়েতে একেক পাশেই ৮টি করে লেইন থাকে। যদিও সম্প্রতি তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু তা হাতের নাগালেই। সবাই গাড়ি নিয়ে দূরে কোথাও চলে যায়। পাহাড় পেড়িয়ে সমূদ্রের তীরে ভীড় লেগেই থাকে।

✔ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যঃ 

আমার সৌভাগ্য হয়েছে এই কয়দিনে সৌদি আরবের রিয়াদে বেশ কিছু জায়গা ঘুরে দেখার- আদ দিরাহে অবস্থিত মাসমাক দুর্গ, কিংডম সেন্টার, আল ফায়সালিয়াহ টাওয়ার, লুলু হাইপার মার্কেট, বাথহা মার্কেট ইত্যাদি। তবে ভ্রমণ বিধিনিষেধ থাকার কারণে বহিঃবিশ্বের পর্যটকেরা সব জায়গা খুব একটা এক্সপ্লোর করতে পারেনা। তাই জায়গাগুলো এখনো প্রকৃতির আদি রুপেই আছে। মরুর সৌন্দর্য্য, ওয়াদি, বুনো ঝোপ, নগরায়ণ সব কিছুই নতুন ভ্রমণপিপাসুদের নয়ন জুড়াবে তাতে সন্দেহ নেই।

✔ নিজের জন্য অঢেল সময়ঃ

আমার ইকামা এখনোও হাতে পাইনি বিধায় অফিসের কাজকর্ম শুরু করতে পারিনি। তাই বাসায় বসে বসে অন্তর্জালে সময় ক্ষেপনের জন্য বিস্তর সময় থাকে। তার উল্টোপিঠে অনেকেই সময়কে খুঁজে পায় না, কিছু করার জন্য সময় হাতড়ে বেড়ায়। এরা আসলে তারুণ্যের মায়াজালে বৃদ্ধের প্রতিরূপ। সময় কখনো থেমে থাকে না। অঢেল এ সময়কে আমরা কতটুকু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি?

✔ মক্কা ও মদীনাঃ

ইসলাম ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য মক্কা ও মদীনা তাঁদের চিন্তা ও চেতনায় বিশাল জায়গা জুড়ে থাকে। সৌদি আরবে যারা থাকেন স্বভাবতই তারা অন্যদের তুলনায় এ স্থান দু’টিতে ইবাদাতের জন্য বেশী বেশী ভ্রমণ করার সুযোগ পান। মক্কা ও মদীনা হৃদয়কে আলোড়িত করে, শুদ্ধভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখায়।

আমার মনের গহীনে লালিত স্বপ্ন- মক্কা ও মদীনা ভ্রমণ বাস্তবে পরিণত হবে (ইনশা’আল্লাহ) সে আশায় প্রহর গুণছি।

Sunday, February 12, 2017

উমরা কীভাবে করবেনঃ (كيف تعتمر)


হজ্জ বা উমরার ইবাদাতে প্রবেশের নিয়ত করাই হচ্ছে ইহরাম। সে হিসেবে প্রথমে ইহরামের কাপড় পরবে, অতঃপর নিয়ত করবে। উমরা হলে উমরার নিয়ত, আর হজ্জ করলে হজ্জের নিয়ত।
পুরুষের ইহরামের কাপড়টি চাদরের মতো দু’টুকরো কাপড়ের ১ টি নিচে ও অপরটি গায়ে পরিধান করবে। সাদা রঙ উত্তম।
উমরার কাজ ৪ টি, এগুলো হলোঃ (১) ইহরাম বাঁধা (২) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা (৩) সাঈ’ করা (৪) মাথা মুন্ডানো বা চুল ছাঁটা।
হজ্জ ও উমরা পালনকারীদের জন্য মক্কার চারপাশে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কয়েকটি সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হজ্জ ও উমরার জন্য যেসব জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়, এ জায়গাগুলোকে বলা হয় ‘মীকাত’।
বাংলদেশ থেকে বিমানে করে যারা জেদ্দায় যান তারা যে মীকাত অতিক্রম করেন তা হলো ‘কারনুল মানাযিল’। উক্ত ‘কারনুল মানাযিল’ অতিক্রম করার আগেই ইহরামের কাপড় পরে উমরার নিয়ত করে ফেলবেন। নিয়ত মনে মনে করবেন, আর মুখেও উচ্চারণ করবেন, اللهم لبيك عمرة،  
(বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরা)   কাপড় পরিধান ও নিয়ত – এ দু’টো কাজ সমাপ্ত করলে ইহরাম করা হয়ে যায়।
এবার তালবিয়্যাহ পড়তে থাকুন। তালবিয়্যাহ হলোঃ
 لبيك اللهم لبيك، لبيك لا شريك لك لبيك، أن الحمد والنعمة لك والملك، لا شريك لك،
মসজিদে হারামে ঢুকার পরপরই তালবিয়্যাহ পড়া বন্ধ করুন।
মসজিদে হারামে প্রবেশকালে ডান পা আগে দিয়ে পড়ুনঃ
أعوذ باالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله اللهم افتح لي أبواب رحمتك،
আর হারাম শরীফ থেকে বের হওয়ার সময় পড়বেনঃ
بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهم إني اسألك من فضلك،
মসজিদে হারামে প্রবেশের পর তাওয়াফের শুরুতেই পুরুষেরা ইদ্তিবা করবেন। ইহরামের গায়ের কাপড়টি এক মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে এমনভাবে পেচিয়ে দেবেন, যাতে ডান কাঁধ, বাহু ও হাত খোলা থাকে। কাপড়টির বাকি অংশ ও উভয় মাথা দিয়ে বাম কাঁধ ও বাহু ঢেকে ফেলবেন। এটাকেই বলা হয় ইদ্তিবা। তাওয়াফের সময় ছাড়া আর কখনো ইদ্তিবা নেই। অন্য সময় বরং দু’কাঁধ ঢেকে রাখা সুন্নাত। তাছাড়া নামাযের সময় দু’কাঁধ ঢেকে রাখা অত্যাবশ্যক।
কাবাঘরকে বামপাশে রেখে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করে বা চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করবেন এবং এখানে এসেই শেষ করবেন। কেউ ভিড়ের কারণে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করতে না পারলে হাত দ্বারা ইশারা করবে। উক্ত কালো পাথরের কোণা বরাবর মসজিদে হারামের দেয়ালে বৈদ্যুতিক সবুজ বাতি দেওয়া আছে। এ সীমানা বরাবর থেকে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করে তাকবীর বলে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করে তাওয়াফ শুরু করে আবার এখানে ফিরে এলে এক চক্কর শেষ হয়। এভাবে ৭ চক্কর পূর্ণ করতে হয়। আর তাওয়াফের ৭ চক্করের মধ্যে প্রথম ৩ চক্করে কাঁধ হেলিয়ে সজোরে বীর দর্পে ঘন ঘন পা ফেলে একটু দ্রুতগতিতে প্রদক্ষিণ করতে হয়। এটাকে শরীয়াতের পরিভাষায় ‘রমল’ বলে। বাকি ৪ চক্কর সাধারণভাবে হাঁটবেন।
দোয়াঃ
اللهم إيمانا بك، وتصديقا بكتابك، ووفاء بعهدك، وأتباعا لسنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم،
হাজারে আসওয়াদের কোণা থেকে তাওয়াফ শুরু করলে কাবা ঘরের চতুর্থ কোণটি হবে ‘রুকনে ইয়ামানী’। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি চক্করেই এটা স্পর্শ করতেন। রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী জায়গায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিচের এ দোয়াটি পড়তেনঃ
ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنه وقنا عذاب النار،
তাওয়াফের সময় সবচেয়ে বড় ইবাদাত হলো দোয়া করা। কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকর-আযকার ও তাওবা-ইস্তিগফার করাও সুন্নাত।
তাওয়াফ শেষ হলে দু’কাঁধ ও বাহু ইহরামের কাপড় দিয়ে আবার ঢেকে ফেলুন এবং মাকামে ইবরাহীম’র কাছে গিয়ে পড়ুনঃ
واتخذوا من مقام إبراهيم مصلي،   (سورة البقرة: ١٤٥)
অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু’রাকাত সালাত আদায় করুন। এখানে মানুষের ভিড় থাকলে মসজিদে হারামের যেকোনো জায়গায় নামায পড়া জায়েয আছে। ইমামে আযম আবু হানিফা (রহঃ) ও ইমাম মালেক (রহঃ) এর মতে, এটি ওয়াজিব নামায, আর ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এর মতে, তা সুন্নাত। প্রথম রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়ার পর সূরা আল-কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়ার পর সূরা আল-ইখলাছ পড়া সুন্নাত। উল্লেখ্য যে, তিনটি নিষিদ্ধ ওয়াক্তেও এ দু’রাকাত নামায আদায় করা জায়েয আছে। অতঃপর যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করুন, আর কিছু পানি আপনার মাথায় ঢালুন, যাতে আপনার চেহারার উপর দিয়ে তা গড়িয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ কাজটি করতেন।
এরপর সাফা পাহাড়ে চলে যান সাঈ’ শুরু করার জন্য। কাবা ঘরের পার্শ্বস্থ সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে দৌড়ানোকে সাঈ’ বলে। সাঈ’র প্রথমেই সাফা পাহাড়ে উঠবেন। সেখানে এ আয়াতটি পড়া সুন্নাত,
أن الصفا والمروة من شعائر الله،  (سورة البقره: ١٥٨)
তারপর কিবলামুখী হয়ে সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে নিম্নের এ যিকরটি পাঠ করা সুন্নাতঃ
لا اله الا الله وحده لاشريك له، له الملك وله الحمد يحيى ويمت وهو على كل شيء قدير، لا اله الا الله وحده أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده،
এই যিকরটি পাঠ করার পর দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করবেন।
সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝের অংশে আনুমানিক ১০০ গজ এলাকা দু’টি সবুজ বাতি দ্বারা চিহ্নিত করা আছে। এ স্থানকে ‘মায়লাইন আল আখদারাইন’ (দুই সবুজ ফলক) বলা হয়। এ জায়গাটুকুতে ‘রমল’ করা অর্থাৎ হেলে দুলে দৌড়ানো পুরুষের জন্য সুন্নাত। দৌড়ানোর সময় সে অংশে পড়বেনঃ
رب اغفر وارحم انك انت الاعز الأكرم،
সাফা পাহাড় থেকে মারওয়া পাহাড়ে গেলে এক চক্কর হয়, আবার মারওয়া পাহাড় থেকে সাফা পাহাড়ে ফিরে এলে আরেক চক্কর হয়। এভাবে ৭ চক্কর পূর্ণ করবেন।
৭ চক্কর শেষ হলে পুরুষেরা মাথা মুন্ডন করবেন। এখন আপনার উমরা শেষ হয়ে গেল। ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ ছিল সেগুলো এখন হালাল হয়ে গেল। ইহরামের পোশাক বদলিয়ে এবার আপনি যেকোনো কাপড় পরিধান করতে পারেন।

Tuesday, January 5, 2016

হবিবপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা, জগন্নাথপুর।

হবিবপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা, জগন্নাথপুর।  (Translated into English : "Habibpur Social Welfare Association" commonly abbreviated as "HSWA") is a non-profit organization at Habibpur, Jagannathpur, Sunamganj. It was established on 1st of January, 2016 with an intention to "Serve the people in need" at Habibpur, Jagannathpur. We understood the joy of giving, sharing & caring and Alhamdulillah, we were successful in spreading joy and bringing smiles to the needy peoples.

Motivated by the satisfaction of the New Year activity, we planned to continue our efforts as a Social Welfare Association. With your active participation and cooperation, the journey has been wonderful and it is like living a dream.

We value your feedback and work on suggestions. Contact us :
>Mr. Abdul Mannan. (UK) +447497882938
>Mr. Md. M Ali. (UK) +447961527522
>Mr. Nayim Sharif. (USA) +19173025201
>Mr. Abdul Kaiyum. (BD) +8801712641685
>Mr. Md. Kobir Uddin. (BD) +8801712104981
>Mr. Shahriear Ahmed Enab. (BD) +8801717020037
>Mr. Jami Ahmed. (BD) +8801711271514

  ✔Blog Link : http://jami-sylhetifuwa.blogspot.com

Wednesday, October 14, 2015

"জগন্নাথপুরে দুই বিদেশী নাগরিকের উপর হামলা" শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশিত ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ।

"জগন্নাথপুরে দুই বিদেশী নাগরিকের উপর হামলা" শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশিত ভিত্তিহীন মিথ্যা রিপোর্টের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলিমপুর নিবাসী জনাব আখতার হোসেনের পরিবারের বিবৃতিঃ


✔ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, অমিত দেব ও মোঃ শাহজাহান মিয়া সম্পাদিত কয়েকটি নিউজ ওয়েব পোর্টালে ১১ই অক্টোবর প্রকাশিত সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জগন্নাথপুরের ছিলিমপুর নিবাসী জনাব আখতার হোসেনের পরিবার। তারা বলেন, এ রিপোর্টটি সর্বৈব মিথ্যা। এ সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো আমাদের বাদী শাহিদ মিয়া(৫৮) ও উনার স্ত্রী জান কি মিয়া(৫৬) এর সাথে ২০১৩ ইং থেকে ভূমি সংক্রান্ত স্বত্বমামলা কোর্টে বিচারাধীন। মহামান্য আদালতের রায় একের পর এক আমাদের পক্ষে থাকায় হিংসার বশবর্তী হয়ে আমাদের নিরীহ পরিবারকে ফাসানোর জন্য মধ্যযোগীয় কায়দায় জান কি মিয়া নিজেই নিজের উপর আঘাত হেনে জগন্নাথপুর থানায় সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলা ঠুকে এক নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই জনাব আখতার হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে পরদিন দুপুরবেলায় সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করেন। চলতি মাসের শেষদিকে বিচারাধীন স্বত্বমামলায় যাতে আমাদের পরিবার সাক্ষ্য দিতে না পারে সেজন্য আমাদের পরিবারের সকলকে আসামী করে মামলা দিয়ে হয়রানীর এক অশুভ পায়তারা করে। সরেজমিন প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। জানা যায়, শাহিদ মিয়া ও তার স্ত্রী জান কি মিয়া প্রবাসী হওয়ার সুবিধে নিয়ে জনাব আখতার হোসেনের নিরীহ পরিবারকে তাদের সম্মানহানীর জন্য দীর্ঘদিন থেকে এলাকার চিহ্নিত অসাধু, অর্থলোভী জিতু মিয়া ড্রাইভার (৩৫), জালাল মিয়া (২৮) গংদেরকে অর্থের বিনিময়ে নিজ স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের মার্চ মাসে শাহিদ মিয়া ও তার স্ত্রী জান কি মিয়া নিজেই নিজের পূর্বদিকের বাংলো ঘরে আগুন লাগিয়ে তাদেরকে ফাসানোর ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু এলাকার জনগণের সচেতনতার দরুন তাদের অশুভ পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়, যা দৈনিক সবুজ সিলেট সহ কয়েকটি পত্রিকান্তরে খবর প্রকাশিত হয়। এভাবেই একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় হয়রানীর শিকার গ্রামের এই নিরীহ, সম্মানিত পরিবারের সদস্যরা সুবিচারের প্রার্থনায় সরকারের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Sunday, March 29, 2015

ক্ষমা করো আবু সাঈদ, ক্ষমা করো... ।

আগুনে পোড়ালে কিছু রাখে, মানুষে পোড়ালে কিছু রাখেনা। আমাদের এ সমাজ মানুষ নামক হায়েনাদের দ্বারা দগ্ধ। খাঁ খাঁ বিরানভূমি। নরপশুরা উন্মত্ত, পাশবিক, নিষ্ঠুর।

ক্ষমা করো আবু সাঈদ, ক্ষমা করো। নির্বাক শুন্য হৃদয়ে ভাষা নেই। তাই কবি হেলাল হাফিজ কে ধার করে বলি-

"জলের আগুনে পুড়ে হয়েছি কমল,
কী দিয়ে মুছবে বলো আগুনের জল।"

Monday, February 20, 2012

একুশের প্রত্যয় : সর্বস্তরে নিশ্চিত হোক বাংলার ব্যবহার ।


অমর একুশে আজ । বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের রক্তস্নাত মহান শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ভাষা দিবস । স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রথম বীজটি রোপিত হয় এই দিন ভাষার প্রতি মমত্ববোধ থেকেই । আমি আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি সেসব শহীদদের আত্মবলিদান ।
ভাষার জন্য লড়াই, আত্মোত্সর্গ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল । আর এ লড়াইয়ের মধ্যেই বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপ উদঘাটিত হয় স্বতন্ত্র মাহাত্ম্যে, ভিন্ন উচ্চতায় । আমাদের সার্বিক বিজয়ের সূতিকাগার এই একুশ । তাই একুশ শুধু উদযাপনের বিষয় নয় ।
আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মদানের গৌরবগাথা আজ শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ববাসীর কাছেও দেশটি দিবসটি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী । একুশের চেতনায়, এর তাত্পর্যে সব ভাষাভাষী মানুষ আজ আন্দোলিত-আলোড়িত । সারা বিশ্বের প্রায় ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা মানুষ যখন আমাদের ভাষা দিবসকে তাদেরও মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন বাংলাদেশী হিসেবে এক অনির্বচনীয় গর্বে ভরে ওঠে বুক । একুশ সবার নিজ নিজ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার তাগিদও সৃষ্টি করে ।
এতকিছুর পরও সেই পুরনো প্রশ্ন থেকেই যায় । আমরা কি মাতৃভাষাকে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দিতে পেরেছি? নাকি বিগত ৬০ বছর ধরে কেবল মুড়িয়ে রেখেছি বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায়? ভাষা সৈনিকদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে পেরেছি কি? ভাষা আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ আজ নির্যাতিত; কারাগারের বন্দীদশায় রেষারেষির রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ঠ । (হে একুশের মহান ভাষা সৈনিক ! তোমাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবেনা । আমরা পারিনি তোমাদের মর্যাদার পংক্তিতে আসীন করতে । আমাদের এ অক্ষমার্হ্য ত্রুটি নিজগুনে ক্ষমা করে দিও ।) ভাষা আন্দোলনের চেতনায় কতটা সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা, তা নিয়ে আজও প্রতীক্ষার শেষ হয়নি । স্বাধীনতা অর্জনের ৪০ বছর অতিক্রান্ত হলেও সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন ঘটেনি—যেমন হওয়ার কথা ছিল । আমাদের সাহিত্যচর্চা এগিয়েছে—এ বিবেচনায় বাংলা চর্চা পিছিয়ে নেই । কিন্তু সুনির্দিষ্ট এবং সর্বজনগ্রাহ্য একটি বাংলা বানানরীতি এখনও যেন সোনার হরিণ হয়ে আছে । বাংলা একাডেমীর মতো প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও বানানরীতি অনুসরণের জন্য সর্বজনগ্রাহ্য অভিধানের অভাব এখনও অনুভূত । এটি একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বললে অত্যুক্তি হবে না । এমনকি বাংলা একাডেমী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মেনে চলছে না অভিন্ন বানানরীতি । ফলে বানানের ক্ষেত্রে বিরাজ করছে এক গোলমেলে অবস্থা । বাংলায় সাইনবোর্ড লেখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বত্রই তা উপেক্ষিত । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলার অনুশীলন দেখা যায় না । পারিবারিক মনোযোগও এক্ষেত্রে উত্সাহব্যঞ্জক নয় ।
বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে আছি । বাংলা ভাষার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা আয়ত্ত করাও সময়ের দাবি । কিন্তু মাতৃভাষাকে অবহেলা করে তা মোটেই সম্ভব নয় । অথচ ক্রমেই এ প্রবণতা বাড়ছে । অন্যান্য ভাষায় লিখিত অনুবাদের ক্ষেত্রে এটি এক বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবেই আমাদের সামনে আসে । মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার বিষয় নিয়ে বিস্তর গবেষণা দরকার । দুঃখজনকভাবে তা হচ্ছে না । এ অবস্থায় বছর বছর আনুষ্ঠানিকভাবে পদক ও পুরস্কার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা বহন করে না ।
ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবস উদযাপন আনুষ্ঠানিকতার মোড়কে বন্দী করে রাখা একুশের চেতনার অনুগামী নয় । সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই একুশ উদযাপনের মাহাত্ম্যকে রূপায়িত করা সম্ভব । সে সঙ্গেই বিলুপ্তির পথে ধাবমান ছোট ছোট নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও টিকিয়ে রাখার দায় আমরা এড়াতে পারি না । বাংলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা । নিবিড় চর্চায় ক্রমাগত উত্কর্ষ সাধনের মাধ্যমে এর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের আত্মদান সার্থক করে তোলা সম্ভব । পরিশেষে নজরুলের ভাষায় বলবো-
        "রক্ত ঝরাতে পারিনাতো একা
         তাই লিখে যাই এ রক্ত লেখা ।"

Saturday, January 21, 2012

আমার বিপন্ন স্বাধীনতা নীরবে-নিভৃতে কাঁদে...।

আমরা স্বাধীনতা...স্বাধীনতা বলে চিৎকার করি ,অথচ রাজনীতির মারপ্যাঁচে বিভক্ত করি আমাদের জাতিস্বত্বা , জাতীয় স্বার্থ, বিনষ্ট করি আমাদের জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সামগ্রিক ভবিষ্যৎ কল্যাণ । সামগ্রিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতা অরক্ষিত । ঘৃণা নয় , হিংসা নয়, বিভক্তি নয়, রাজনীতি নয়- চাই জাতীয় ঐক্য , চাই সামগ্রিক মুক্তি, চাই প্রকৃত স্বাধীনতা । আমাদের জীবন যেখানে প্রতিনিয়ত বিপন্ন অমানবিক হিংস্রতা ও নিরাপত্তাহীনতায় , দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে- আমাদের দাঁড়াতে হবে মাথা উঁচু করে সামগ্রিক মুক্তির লক্ষ্যে - যাতে আমাদের ব্যক্তি ও সামগ্রিক স্বাধীনতা ব্যাহত না হয় । বারবার হিংস্র BSF (Border Security Forces) নির্যাতনের চিত্র কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । আমরা নির্যাতিত প্রতিদিন , প্রতিনিয়ত , সেই সুদীর্ঘকাল ধরে- ভেতরে কিংবা বাইরে । সামগ্রিক মুক্তি ছাড়া আমাদের জীবন ও স্বাধীনতা বিপন্ন ঐ BSF নির্যাতিত অসহায় মানুষটার মত । অথচ আমরা স্বাধীনতা...স্বাধীনতা বলে চিৎকার করি, রাজনীতি করি... আর আমার বিপন্ন স্বাধীনতা নীরবে-নিভৃতে কাঁদে...।
...সত্যিই সেলুকাস...!
রাজনীতির ময়দানে আমরা যাই বলিনা কেন আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত; বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত কর্তৃক সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশী হত্যা, পুশ-ইন,পুশ-ব্যাক আমরা আর নীরবে সহ্য করবনা । স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন--এই বোধোদয়টুকু আমাদের রাজনীতিবিদদের হওয়া উচিত । শুধুমাত্র ভারতীয় কর্তাবাবুদের মনোরঞ্জনের নিমিত্তে বোবা সেজে থাকার দরুণ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে আমার বোন ফেলানীর লাশ কিন্তু কেন ?
আমাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয় শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি । সুতরাং আমরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও ভারতীয় ঘৃণ্য আচরণের মুখোশ খুলে ফেলবো । আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে অরক্ষিত অবস্থায় দেখতে চাইনা; যা পরাধীনতার নামান্তর ।